আক্ষান কাব্য হিসেবে পলাশী যুদ্ধ কাব্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। Burdwan University (পূর্ণিমান-৫)
উত্তর:- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এর 'পদ্মিনী উপাক্ষান' এর ধারা অনুসারে নবীনচন্দ্র যে আক্ষান কাব্য নির্মাণ করেছেন তা হলো-'পলাশীর যুদ্ধ'(১৮৭৫)। ১৭৫৭ সালের ২৩ই জুন পলাশীর আমবাগানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে যুদ্ধে আপন জনদের ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজদোল্লার পরাজয়, পলায়ন ও ধরাপরা, মৃত্যুর কাহিনী নিয়ে এই কাব্যের আক্ষান গড়ে উঠেছে। ইতিহাসের কাহিনীকে নবীনচন্দ্র দেশপ্রেমের আবেগ ও উন্মাদনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশ করেছেন। নিতান্ত তরুণ বয়সে এদেশের এক ক্রান্তি কালের রূপ যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি তা প্রশংসার দাবি রাখে। ইংরেজি সাহিত্যের কবি বাইরণের কবিতার সঙ্গে নবীনচন্দ্র সেনের কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। হৃদয় নিরুদ্ধ ভাব সকল অগ্নিশিখা কনের মতো এই কাব্যের কাহিনী গড়ে উঠেছে। সিরাজ ও মোহনলালের চরিত্রে কাব্যের সুন্দরভাবে অঙ্কিত হয়েছে। ইংরেজদের কামানের গোলার আঘাতে মীর মদনের মৃত্যু ঘটেছে। সেনাপতি মীর জাফর ইংরেজদের আক্রমণের আদেশ দিচ্ছেন না। কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে ইংরেজদের গোলায় মারা যাচ্ছে নবাব সৈনরা। মোহনলাল অসহায় ভাবে সেনাপতিকে অনুনয় করেছেন সৈন্যদের যুদ্ধের আদেশ দেওয়ার জন্য----
"দেখছিস না সর্বনাশ সম্মুখে তোমার?
যাই বঙ্গ সিংহাসন
যাই স্বাধীনতা ধন
যেতেছে ভাসিয়া সব কি দেখছিস আর?''
মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাস্তবরূপ দেখানো হয়েছে। এই কাব্যে, দিগন্তে অস্ত চলগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে মোহনলালের আক্ষেপ এ দেশের দেশ ভক্ত মানুষের হৃদয় যন্ত্রনাকে যেন প্রকাশ করেছে----
" কোথা যাও ফিরে চাও সহস্র কিরণ
বারেক ফিরিয়া চাও ওহে দিনমনি
নিতান্ত কি দিনমনি ডুবিলে এবার
ডুবাইয়া বঙ্গ আজি শোক সিন্ধু জলে।''
------------------
.png)