পল্লব শিল্পের উপর সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখ। Burdwan University

0

পল্লব শিল্পের উপর সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখ। Burdwan University (পূর্ণমান-10)

 

পল্লব স্থাপত্য :- Sachindra Kumar Maity তাঁর “Masterpieces of Pallava Art নামক গ্রন্থে পল্লব শিল্প প্রসঙ্গে পল্লব স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং চিত্রকলার নিদর্শনগুলির শিল্পনৈপুণ্যের প্রশংসা করেছিলেন। পল্লব শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল—(i) কাঞ্চীপুরম এবং মামল্লপুরম বা মহাবলীপুরম। পল্লব শিল্পরীতির ক্ষেত্রে ৪টি শিল্পরীতির উদ্ভব লক্ষ্য করা যায়।—(১) মহেন্দ্ররীতি, (২) মামল্ল রীতি বা মহামল্ল রীতি, (৩) রাজসিংহ রীতি এবং (৪) অপরাজিত রীতি। পল্লব শিল্প দাবিড় শিল্পরীতির পরিচয় বহন করেছিল।


মহেন্দ্র রীতি (৬০০-৬৩০ সাল) :- প্রথম মহেন্দ্রবর্মন পল্লব স্থাপত্যের ‘মহেন্দ্ররীতি’র উদ্ভাবক ছিলেন। মহেন্দ্র রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—চৈত্যের আকারে গুহামন্দির নির্মাণ। দক্ষিণ ভারতে তোল্ডাইমণ্ডলে পাহাড়ের পাথর কেটে দৈত্যের আকারে গুহামন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রথম মহেন্দ্র বর্মনের সময়কালে এই ধরনে গুহামন্দিরগুলির বিশেষ নিদর্শন ছিল—(১) উদ্ভবল্লির অনন্তশায়ন মন্দির, (২) উত্তর আর্কটের শিয়া মঙ্গলম মন্দির, (৩) উত্তর আকর্টের মামন্দুর মন্দির, (৪) উত্তর আর্কটের ভৈরবকোল্ড মন্দির, (৫)-দক্ষিণ আর্কেট জেলার মণ্ডপপত্তুর গুহামন্দির প্রভৃতি।উচ্চবদির অনন্তশায়ন মন্দিরটি চারতল বিশিষ্ট ছিল। প্রথম মহেন্দ্র বর্মনের সময়কালে নির্মিত তিরুচিরাপল্লি বা ত্রিচিনাপল্লির মন্দিরটি স্থাপত্যশিল্পের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ছিল ।


প্রথম নরসিংবর্মন 'মহামাত্র' নামে পরিচিত ছিলেন। প্রথম নরসিংবর্মনের সময়কালেও পাহাড় কেটে মন্দির স্থাপত্য তৈরি করা হয়েছিল। মামল্লপুরমের রথমন্দিরগুলির মধ্যে আদি দ্রাবিড় শিল্পরীতির নিদর্শন রয়েছে।,


ব্রাজসিংহ রীতি (৬৯৫-৭২১ সাল) :- দ্বিতীয় নরহিংসবর্মন রাজসিংহের সময়কালে পল্লব স্থাপত্য শিল্পে যে পরিবর্তন দেখা যায় তা হল- এই সময়কালে পাথরের স্বতন্ত্র মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। এই ধরনের নির্মাণের পদ্ধতিকে ‘রাজসিংহরীতি” বলে অভিহিত করা হয়। রাজসিংহরীতির স্থাপত্যগুলি কাঞ্চীপুরম এবং মামল্লপুরমে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই রীতির মন্দিরগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মন্দির হল – (১) মামল্লাপুরমের ঈশ্বর মন্দির। তির মন্দির, মুকন্দ মন্দির, (২) দক্ষিণ আর্কটের তলগিরিশ্বর মন্দির, (৩) কাঞ্চীপুরমের বৈকুণ্ঠ পেরুমল মন্দির, কৈলাসনাথ মন্দির।


অপরাজিত বা নদিবর্মন গোষ্ঠী রীতি (৮৯৩-৯১৩ সাল) :- ১ পল্লব স্থাপত্যের নিদর্শন হিসাবে অপরাজিত বর্মনের সময়কালের মন্দিরগুলির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নচিহ রয়েছে। মন্দির স্থাপত্যের দিক থেকে এই সময় অবনতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই সময়কার মন্দিরগুলির মধ্যে কাঞ্চীপুরমের – (১) মুক্তেশ্বর মন্দির এবং (২) মতঙ্গেশ্বর মন্দির গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পল্লব স্থাপত্যশিল্পের শেষ দিককার ধারাকে নদিবর্মন গোষ্ঠীর শিল্পরীতি হিসাবে আভিহিত করা হয়েছিল।


পল্লব ভাস্কর্য :- পল্লবদের সময়কালে ভাস্কর্য ৪টি ভাগে বিভক্ত ছিল। -- (১) কিরাতর্জুনিয়া রিলিফ, (২) পাহাড় কাটা গুহামন্দির, (৩) একশিলাভিত্তিক রথমন্দির এবং (৪) অন্যান্য ভাস্কর্য।


পণ্ডিত রামচন্দ্রন পল্লব ভাস্কর্য সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন যে, মামল্লপুরমের সিলিফটি প্রকৃতপক্ষে মহাভারত ও পুরাণ বর্ণিত কিরাতানিয় কাহিনী অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছিল। মামল্লপুরমে পাহাড়ে খোদাই করা রিলিফটি 'গঙ্গাবতরণ ক্যানেল বা 'অর্জুনের প্রায়শ্চিত্ত' নামে পরিচিত ছিল। পাহাড়ের কিছু অংশ কেটে পল্লব ভাস্কর্য শিল্পীরা আয়তকার স্তুপ বা গুহামন্দির তৈরি করেছিলেন। মহাবলীপুরমের পাহাড়ে ‘মহিষমর্দিনি’ গুহামন্দিরে দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের সংঘাত নারীর সাহসের প্রতীক রূপেপ্রতিষালিত হয়েছিল। বিষ্ণু গুহামন্দিরে বিষ্ণু অনন্ত নিদ্রায় শায়িত বিষ্ণু প্রশান্তির প্রতীক না। এক শিলাভিত্তিক রথমন্দিরে ভাস্কর্য শিল্পের পরিচয় পাওয়া যায়। পল্লব ভাস্কর্যে বানরের মূর্তি ছাড়াও হাতি, ষাঁড় ও সিংহের নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়।


 পল্লব চিত্রকলা :- পল্লব স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের তুলনায় পল্লব চিত্রকলা সেভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কিন্তু পল্লব মন্দিরের দেওয়ালে চিত্রকলার নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের সময়কালে চিত্রকলার যে নিদর্শন পাওয়া যায় তা বর্তমানে প্রায় অবলুপ্ত। দ্বিতীয় নরসিংহবর্মন রাজসিংহের সময়কালে পনমলই ও কাঞ্চীপুরমের বেশ কিছু মন্দিরের দেওয়ালে চিত্রকলার নিদর্শন দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। পন্‌মলই-এর মন্দিরে নটরাজের নৃত্য উপভোগকারি পাবর্তীর আনন্দ মুখরিত চিত্র দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। (কাঞ্চীপুরমের কৈলাসনাথ মন্দিরে সোমস্কন্দ বা শিব এবং পাবর্তীর সঙ্গে তাঁদের সন্তান স্কন্দ বা কার্তেকেয়-এর চিত্র রয়েছে। পল্লব চিত্রকলার নিদর্শনগুলি অবলুপ্ত হওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top