রাজেন্দ্র চোলের সামুদ্রিক ক্রিয়াকলাপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। Burdwan university (পূর্ণমান-5)
উত্তর :- খ্রীষ্টীয় নবম শতাব্দীর মধ্যভাগে পল্লব রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে তাদেরই সামন্ত বংশ চোল রাজারা দক্ষিণ ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। খ্রীষ্টীয় দশম ও একাদশ শতকে চোল রাজারা দক্ষিণ ভারতে শক্তিশালী নৌবহর গড়ার জন্য বিশেষ ভাবে খ্যাতি লাভ করে। প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে একমাত্র চোল বংশই সামুদ্রিক শক্তির যথার্থ বিকাশ ঘটিয়ে ছিল।
প্রথম রাজরাজ (৯৮৫-১০১৪ খ্রীঃ) চোলরাজ প্রথম রাজরাজ চোলের ত্রিশ - বছরের রাজত্বকালের সর্বাপেক্ষা বড়ো কৃতিত্ব ছিল সিংহল অভিযান। এই অভিযানেরপিছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিল তাঁর বৃহৎ নৌশক্তি। এই নৌশক্তির সাহায্যে তিনি লাক্ষাদ্বীপ, মালদ্বীপ সহ ১২০০ দ্বীপ জয় করেন। এই সময় সিংহলের অনুরাধাপুরে তিনি চোল অধিকৃত সিংহলের রাজধানী স্থাপন করেন। সিংহল ও সুদূর দক্ষিণ জয়ের ফলে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য তিনি আয়ত্তে আনেন।
পরতলার - " চোল রাজেন্দ্র চোল (১০১৪-১০৪৪ খ্রীঃ) প্রথম রাজরাজের পুত্র রাজেন্দ্র চোলের সময় চোল নৌশক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। তার নৌশক্তির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর চোল হ্রদে পরিণত হয়। তিনি আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মালয়, জাভা, সুমাত্রা, প্রভৃতি দ্বীপের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। রাজেন্দ্র চোল আরবদের একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার খর্ব করার জন্য মালাবার উপকূলে তার সামুদ্রিক অধিকার বজায় রাখেন।
গুরুত্ব ঃ- চোলদের সামুদ্রিক আধিপত্যের ফলে সিংহল, সুমাত্রায় বাণিজ্যিক প্রসারে সাথে সাথে ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে। চোলদের আগে আর কোন ভারতী রাজাগণ এই ভাবে সমুদ্রের উপর নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি। ঐতিহাসি রোমিলা থাপার তাই মন্তব্য করেছেন “ভারতের কোনো রাজা এর আগে ভারতে বাইরে এই ধরনের সামরিক সাফল্য অর্জন করতে পারেনি”।

