চর্যাপদে সমাজ জীবনের পরিচয় দাও? Burdwan university (পূর্ণমান-10)
- জীবন ধর্মের প্রকাশে ধানমগ্ন রূপনা প্রতীকের বিচিত্র চিত্রশালায় সাধক সঙ্গীত হল চর্যাগীতি, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নির্দশন এই চর্যাপদ ১৯০৭ খ্রিঃ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লোকের রাজদরবার থেকে আবিষ্কার করেন, এই গ্রন্থে ২৪ জন সিদ্ধা চার্যের ৫০টি মতান্তরে ৫১ টি গান সংকলিত হয়েছে। চ শূন্য শুরু সাধনসঙ্গীত হিসাবে বিশব্য কাব্য সৌন্দর্য্যে নয়- এর একটি রাষ্ট্রিক ও সামাজিক মূল্য রয়েছে।
চর্যাকারপত্র সমাজের মানুষ। তাই তাদের গানে সমকালীন প্রেক্ষাপট অবলীলা এসে স্থান পেয়েছে, 'তৎকালীন রয়েছে চর্যাগান, আদি জনগোষ্ঠী হিসেবে শরীর কথা বারে বারে এসেছে। চর্যাগানে যে সমাজ গড়নের চিত্র পাই তা হিন্দু সমাজের গড়ন। উচু কোটিতে আাদুন, নিম্নকোটিতে ক্রোম, চণ্ডাল ছাড়াও শুঁড়ি, ইনুরী প্রকৃতির কথা জানতে পারি। শুধুমাত্র বর্তমান সময়ে নয় অকালীন সময়ের নারী ভোগের বছর ছিল তার পরিচয় পাওয়া যায় চর্যাপদে "মারি তর আসু ননন্দ ঘরে গালী" (১১ নং পদ)
তৎকালীন বঙ্গদেশ ছিল নদীমাতৃক, নৌকার ব্যাপর প্রসঙ্গত দেখে মনে হয় নৌবানিজ্যের প্রসার ছিল। নৌকা শুধু পারাপার করতনা তা সোনা রূপো পারাপার হত। গঙ্গা নদীর নাম পাওয়া যায় -
ভাঙ্গণ জটনা মাঝে রে বহই নাই।” (১৪নং পদ) বৃহত্তর রাষ্ট্র জীবনের পরিচয় পাই চর্যাগানে, রাজপথের প্রসঙ্গ, সৈনদের আগমন, নগর রক্ষকের কথা পাওয়া যায়, নদীপথ ছিল বিপদ মানুষ, দস্যুর ভয় ছিল। দেশে ধনবান লোকও ছিল তারা ছিল পাপাইনের মালিক,
সাধারণ গৃহজীবনের ছবিতে চর্যাগান সমৃদ্ধ। তৎকালীন জীবন ছিল স্বভাবতই সুখ-দুঃ, আশা-নিরাশায় করুন মধুর, শশুর শাশুড়ি, ননদ, বঁধু নিয়ে যৌথ পরিবার। তৎকালীন সমাজের আচার-অনুষ্ঠান, ক্রিয়াকর্ম, উৎসবাদির পরিচয় মেল চর্যাগানে। বিবাহযাত্রা যৌতুক প্রসঙ্গত, বাদ্যি বাজনা এ সবের পরিচয় বিধৃত রয়েছে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্ররো জন্য সমগ্রীর গাও চর্যাপদে পাওয়া যায়, যেমন-দাঁড়ি, ক্ষত, পিঠা দ্বৈধ দোয়ানের পাত্র), সগুলি গোড়ু), দাপন (আয়না), তাঁবোলা (পান), মুক্তিহার (মুজাহার) প্রভৃতি
"দুলি দুহি পীড়া ধরন "বাই" (২ নং পদ)
বাঙালির গৃহজীবনের দায়িত্ব দুঃখও সাধনাদের দৃষ্টি এড়ায়নি ৩৩ সংখ্যক গানে দেখা যায়- এক পরিবারে হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ অভাবের সংসারে অতিথির নিত্য আগমন, এই অভাবের তাড়না বিশেষভাবে সহ্য করতে হত নারীকে, নারীর মর্ম আপনার চর্যাগীতি স্থানে স্থানে অনুসমূ
'হাতিত ভাত নাই নিডি আবেশি” (তওবা পদ)
চর্যাপদে সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের প্রাধান্য থাকলেও অনান্য ধর্মের প্রসঙ্গ দেখে মনে হয় তৎকালে বিভিন্ন ধর্মেরমানুষ পাশাপাশি বসবাস করতেন, আগম, বেদ, পুরান তন্ত্র প্রভৃতির চর্চা ছিল। এছাড়া হঠযোগীদের পরিচয় পাওয়া যায়, যারা অজর অমর হওয়ার জন্য পারদ ঘটিত নানা ঔধি ব্যবহার করতেন। চর্যাগীতিতে নাথপন্থীদের পরিচয় আছে।
সুতরাং চর্যাগানের সমকালীন জীবনের নানা পরিচয় থাকায় এর সামাজিক মূল্যও অপরিসীম।

