মহেশ গল্পে আমিনা চরিত্রটি আলোচনা করো। Burdwan University

0

মহেশ গল্পে আমিনা চরিত্রটি চিত্রিত করো। Burdwan University (পূর্ণমান-10)


মহেশ গল্পে আমিনা চরিত্রটি চিত্রিত করো। Burdwan University


উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মহেশ' ছোটোগল্পে আমিনা হল গফুরের দশ বছর বয়সি মাতৃহারা কন্যা। নিতান্ত বালিকা হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে সেবাগুণ, নম্রতা ও সহ্যশক্তির যে এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে পাই তা আমিনা চরিত্রকে গল্পের প্রধান চরিত্রগুলির একটি হিসেবে গণ্য করতে বাধ্য করে।


দরিদ্র, অসহায় বৃদ্ধ পিতার প্রতি সেবাযত্নে ছোট্ট আমিনা ছিল মায়ের মতোই স্নহশীলা। তাই গফুর ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে সর্বদাই যত্নের সঙ্গে ভাত বেড়ে বাবাকে খেতে দিত সে। 


আমিনার স্বভাব অত্যন্ত নম্র ছিল বলেই তর্করত্ন অকারণে রূঢ়স্বরে গফুরকে ডাকতে থাকলে সে অত্যন্ত বিনীতভাবেই তার বাবার জ্বরের কথা জানায় এবং তারপর তর্করত্নের অকারণ গালিগালাজেও চুপ করে থাকে। পুত্রসম ষাঁড় মহেশকে খাওয়ানোর জন্য নিরুপায় গফুর যখন ঘরের চাল থেকে খড় টেনে আনে, তখনও সে পিতার এই আত্মঘাতী কাজের ন সমালোচনা করে। -- 'মহেশকে আবার চাল ফেড়ে খড় দিয়েছ বাবা?” মাণিক ঘোষ মহেশকে দরিয়াপুরের খোঁয়াড়ে দিলে এই আমিনাই অত্যন্ত নম্রভাবে তার বাবাকে অনুরোধ জানিয়েছে মহেশকে ফিরিয়ে আনার জন্য। এমনকি, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, অপরাধবোধ ও অপমানে দীর্ণ গফুর যখন দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে মহেশের মাথায় লাঙলের ফলার কোপ বসায়, তখন সে অবিশ্বাস্য কাণ্ড দেখেও সে উত্তেজিত হয়নি। কেঁদে উঠে সে বলেছে – আমাদের মহেশ যে মরে গেল।” “কী করলে বাবা, আমাদের মহেশ যে মারা গেল"|


“অসাধারণ সহাশক্তি ছিল আমিনার। তাই ভাত না পেয়ে গফুর রাগে একদিন চিৎকার করে উঠলে সে ক্ষীণ কণ্ঠে জানায় – 'চাল নেই বাবা'। তারপর ক্ষুধার্ত ও ক্রুদ্ধ গফুর তাকে বিনাদোষে গালিগালাজ করে, তার খাওয়া নিয়ে বিদ্রুপও করে, এমনকি তাকে চড়ও মারে। কিন্তু এতসবের পরেও টু শব্দটি করে না সে – মাটির কলসিটি নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে তৃষ্ণার্ত পিতার জন্য জল আনতে চলে যায়। তার বোধশক্তিও অসাধারণ। যখন মহেশ তৃষ্ণার জলের পাত্রসহ আমিনাকে ফেলে দেয় তখন গফুর দিক্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে লাঙলের ফলার কোপ বসায় তখন সে বাবাকে বলে – মহেশ যে মরে গেল।'


এইভাবে ‘মহেশ' গল্পটি আলোচনা করলে আমরা মাত্র দশ বছরের মাতৃহীনা বালিকা আমিনার মাতৃসুলভ সেবাগুণ, নম্রতা ও সহাশক্তির যে পরিচয় পাই তাতে তাকে মহৎ চরিত্র না বলে উপায় নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top