টিকা লেখো: গুপ্তযুগের ইতিহাসের উপাদান। B.A. History Gen 2nd Semester
উত্তর:-
ভূমিকা : গুপ্ত যুগের সম্পূর্ণ ইতিহাস রচনার জন্য যে সমস্ত তথ্য রয়েছে, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তার প্রাচুর্যতা অনেক বেশি। সাহিত্যিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান এযুগের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করে। তবে উপাদানগুলি সচেতনভাবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। কারণ এই উপাদানগুলোর বেশিরভাগই নাটক, কাব্য, উপাখ্যান ইত্যাদি।
দেশীয় সাহিত্য : দেশীয় সাহিত্য উপাদানের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে পুরাণ। ১৮টি পুরাণের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বায়ু, ব্রহ্মাণ্ড, মৎস্য ইত্যাদি। এগুলো গুপ্তযুগের ইতিহাস জানতে সাহায্য করে। গুপ্ত-রাজাদের আদি বাসস্থান ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের সীমানা জানতে পুরাণগুলি কাজে লাগে।
এইযুগের ইতিহাস জানতে স্মৃতিগুলোর ওপরেও আমাদের কিছুটা নির্ভর করতে হয়। যেমন মনু, নারদ, কাত্যায়ন স্মৃতি তৎকালীন সমাজের একটি সুস্পষ্ট চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।
এছাড়া বজ্জিকা রচিত 'কৌমুদী মহোৎসব'; বিশাখ দত্ত রচিত 'মুদ্রারাক্ষস', 'দেবীচন্দ্রগুপ্তম'; মহাকবি কালিদাস রচিত বিভিন্ন নাটক থেকেও গুপ্তযুগের মানুষদের জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়।
বিদেশী সাহিত্য : বিদেশী পর্যটকদের বিবরণও গুপ্তযুগের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করে। চিনা বৌদ্ধ ভিক্ষু ফা - হিয়েন রচিত 'ফো - কো - কি' নামক গ্রন্থ থেকে গুপ্তরাজ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালের বিবরণ জানা যায়। এছাড়া ওয়াং - হিউয়েন - সি রচিত 'ফো - ওয়ান - চু - লিন' এবং হিউয়েন সাঙ রচিত 'সি - ইউ - কি' গ্রন্থদুটি থেকে গুপ্তযুগের অনেক রাজনৈতিক তথ্য জানা যায়।
প্রত্নতত্ত্ব : সাহিত্যিক উপাদানের তুলনায় প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান আমাদের গুপ্তযুগের ইতিহাস রচনায় অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভেজাল তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
গুপ্তসম্রাট সমুদ্রগুপ্ত থেকে শুরু করে বুধগুপ্ত পর্যন্ত উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিয়াল্লিসটির বেশি শিলালেখ মেলে গুপ্তরাজাদের। এগুলি থেকে সেযুগের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য জানতে পারা যায়।

